চীন - অসাধারণ সব উন্নয়ন

ছোটবেলায় পৃথিবীর সপ্তাশ্চার্য চীনের প্রাচীরের বিশালত্বের কথা জেনে অবাক হতাম। জ্ঞানার্জনের জন্য চীনে যাও - এমন কথাও ধর্মীয় কোন উৎস (হাদীস) থেকে শুনেছিলাম। তারপর সস্তা মেড ইন চায়নার জয় জয়কার, বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের প্রভাব, এ্যাথলেটিকসে চীনের দক্ষতা ইত্যাদি দেখে দেখে চীনের ব্যাপারে খবরাখবরে অবাক বা কৌতুহলী হওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম। এই সব হলে কী হবে, চীন বা জাপান তেমন কোন উন্নত মৌলিক গবেষণা হয়না;  কিংবা, ওরা শুধু আমেরিকা ইউরোপের টেকনোলজী কপি করে নিয়ে সস্তায় পণ্য বানায়; চীনের জিনিষ মানেই ফালতু - এমন একটা ইমেজও মনের মধ্যে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ইদানিং চীনের একের পর এক রেকর্ড গড়া সব টেকনোলজির খবর দেখে চীনের জ্ঞানচর্চার উল্লম্ফন সম্পর্কে পুরাতন একটা সমীহ আবারই জেগে উঠছে। অসাধারণ বড় বড় জিনিষপত্র বানানোর বাতিক কোন শারীরিক দূর্বলতার কারণে সৃষ্ট মর্মবেদনা থেকে উৎপন্ন কি না সেটা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও চীনের আকার, জনসংখ্যা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিচারে এ ধরণের উন্নয়ন অস্বাভাবিক নয় বলেই মনে হয়।

দীর্ঘতম, উচ্চতম বা দ্রুততম বিষয়গুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল, টেকনোলজির উন্নয়নের সাথে সাথে কেউ না কেউ এর চেয়ে বড় বা দ্রুততর কিছু বানিয়ে ফেলবে - তাই এর ভিত্তিতে কেউ সেরা, কেউ ভূয়া - এমন কোন ধারনা মনের মধ্যে রাখা উচিত নয় বলেই মনে হয়। তবে, শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্য কিছু বানানো, আর একটা কিছু বানিয়ে সেটাকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে। দ্রুততম যানবাহন শুধু বানালেই হয় না, বাণিজ্যিক ভাবে এগুলো চালাতে হলে এ্যাত দ্রুত অথচ নিরাপদে চলার মত পথ তৈরী ও রক্ষণাবেক্ষণ করাটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। আবার একই ভাবে বৃহত্তম যানবাহন নিরাপদে চলার উপযোগী পথ, পথের বাঁকে গাড়ি ঘোরানোর জন্য জায়গা (টার্নিং রেডিয়াস) - এগুলোর আয়োজন করে সেই গাড়িকে পথে বাণিজ্যিক ভাবে নামানোটা একটা বড় সফলতা বলে মনে হয়। এই লেখাটার মূল ফোকাস চীনের উন্নয়ন করা অদ্ভুদ এক সিটি বাস; তবে সেই প্রসঙ্গের আগে চীনের অন্য কিছু সক্ষমতা - যা চীনের ব্যাপারে আমার কৌতুহল বৃদ্ধি করেছিলো, সেগুলো সংক্ষেপে জানাতে চাই।

বিশ্বের দীর্ঘতম বাস: .... এই দুই এক দিন আগের খবর, প্রথম চোখে পড়ে বিডিনিউজ২৪ এর টেকনোলজি পাতায়। চীন বিশ্বের দীর্ঘতম বাস বানিয়েছে, এবং এটা অচিরেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ওদের কিছু শহরের রাস্তায় চলবে। এক বাসে ৩০০ যাত্রী বসে যেতে পারবে - যাত্রী সংখ্যার এই বিশালত্বটাই অবাক করার মত।


রেলগাড়ি: যুক্তরাজ্যের টেলিগ্রাফ পত্রিকার একটা রিপোর্ট অনুযায়ী (২০১১-মে-১১) চীনে বিশ্বের দ্রুততম বাণিজ্যিক রেলগাড়ি চলে। এটা ছাড়াও বর্তমানে বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে চলা দ্রুততম ম্যাগলেভ ট্রেন সার্ভিসও চীনে (সর্বোচ্চ ৪৩১কিমি/ঘন্টা, গড়ে ২৬৬ কিমি/ঘন্টা)।

কোন এক সময়ে শুনেছিলাম চীন এমন ট্রেনের উন্নয়ন করছে যেগুলোকে দীর্ঘ যাত্রাপথের মধ্যবর্তী কোন স্টেশনে যাত্রী উঠানামা করানোর জন্য থামতে হবে না, ফলে যাত্রার সময় লাগবে অনেক কম। এতে কোন একটা স্টেশন অতিক্রম করার কিছু আগে ঐ স্টেশনে নামতে ইচ্ছুক যাত্রীগণ ট্রেনের ছাদে একটা বিশেষ বগিতে জড়ো হবে। ঐ বগিটা মূল ট্রেনের ছাদের উপরে থেকেই ধীরে ধীরে ট্রেনের পেছনের দিকে যেতে থাকবে, অর্থাৎ ভূমির সাপেক্ষে এর গতিবেগ কমতে শুরু করবে এবং ট্রেনের ছাদ বরাবর স্টেশনের লাইনে চলে গিয়ে ধীরে ধীরে মন্দনের ফলে থেমে যাবে। একই ভাবে মূল ট্রেন ঐ স্টেশনের নিচের লাইন দিয়ে অতিক্রমের কিছুক্ষণ আগেই একই রকম আরেকটা বগি ঐ ট্রেনে গমনেচ্ছু যাত্রীদেরকে নিয়ে স্টেশন ত্যাগ করে গতিবেগ বাড়াতে থাকবে এবং মূল ট্রেনের গিয়ে ছাদে গিয়ে যুক্ত হবে। এটার ধারনার ইউটিউব ভিডিওটি দেখলে ব্যাপারটা সহজে বুঝা যাবে।


এই উপায়ে বেইজিং থেকে গুয়াংঝুর মাঝের ৩০টি স্টেশনে গড়ে ৫ মিনিট করে প্রায় আড়াই ঘন্টা সময় বাঁচানো যাবে। ট্রেনটি স্টেশনগুলোতে না থেমে একটু কম গতিতে অতিক্রম করবে।


বিশ্বের দীর্ঘতম সেতু: কিছুদিন আগে চীনে বিশ্বের দীর্ঘতম সড়ক সেতু উদ্বোধন করা হল। যদিও কিছু জায়গায় এটাকে দীর্ঘতম সেতু বলে স্বীকার করেনি, কারণ ৪২ কিলোমিটারের মধ্যে বেশ কিছু অংশ পানির উপর দিয়ে না গিয়ে ভূমির উপর দিয়ে গিয়েছে এবং এতে বাঁকের কারণে দৈর্ঘ বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে যে ব্যাপারটি অবাক করেছে সেটা হল এটার খরচ। চীনের সরকারী মুখপাত্র পত্রিকার খবরে মাত্র ২.৩ বিলিয়ন ডলার। আমাদের ৬ কিলোমিটারের পদ্মা সেতুর খরচ কত বিলিয়ন ডলার?



এবার আসি মূল টপিকে:
গত বছর মে মাসে চীনের বেইজিং হাইটেক এক্সপোতে শেংঝেং হাসি ফিউচার পার্কিং ইকুইপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড চীনের যানজট এবং বায়ুদূষণ কমানোর জন্য এক ধরণের রেলগাড়ি মার্কা বাসের প্রকল্পের কথা প্রকাশ করে। এই বাস রাস্তার দুই পাশের রেইলের উপর চাকা রেখে চলবে, তবে রনপা লাগানো মানুষের মত এর যাত্রীবাহি অংশ ভূমি থেকে অনেক উপরে থাকবে, ফলে এর তলা দিয়ে ২মিটারের কম উচ্চতা বিশিষ্ট ছোটগাড়িগুলো বাধাহীন ভাবে চলাচল করতে পারবে।

রনপা বাস: এর তলা দিয়ে ছোট গাড়ি যেতে পারবে


রনপা বাস স্টপেজ: সাথে সুপার ক্যাপাসিটর চার্জার

এই গাড়ি চালাতে বিদ্যূৎ কিংবা সৌরবিদ্যূৎ ব্যবহার করা হবে। ২০ ফুট চওড়া আর ১৩ ফুট উচ্চতার এই বাসে ১২০০ থেকে ১৪০০ যাত্রী বসতে পারবে। রাস্তার পাশের উঁচু প্লাটফর্ম থেকে বাসের পাশের দরজা দিয়ে কিংবা রাস্তার উপরের ফুট ওভার ব্রীজের মত জায়গা থেকে বাসের ছাদ দিয়ে এই গাড়িতে যাত্রী উঠানামা করবে (দুইটা অপশনই থাকবে)। যাত্রী উঠা-নামানোর জন্য থামানো/পার্কিং থাকুক কিংবা চলন্ত থাকুক, এর তলা দিয়ে সবসময়ই গাড়ি চলতে পারবে। তাই এটা রাস্তা ধরে চললেও রাস্তার জায়গা দখল করে না এবং এর ফলে এটার কারণে রাস্তায় যানজট লাগবে না। যাত্রী পরিবহন করা সত্বেও রাস্তা দখল না করার জন্য এটা বরং রাস্তা থেকে কিছু সংখ্যক বাস কমিয়ে যানজট কমিয়ে দেবে। আর ট্রামের মত বিদ্যূৎ চালিত হওয়ায় এটা মোট কার্বন নিঃসরণও কমিয়ে দেবে (গাড়িপ্রতি ৮৬০টন/বছর)। নিচের ইংরেজি ডাবিংকৃত ভিডিওটাতে এর কর্মপদ্ধতি ব্যাখ্যা করছেন একজন এক্সপার্ট।



ওনাদের দাবী অনুযায়ী এই ধরণের সিস্টেম বানানো সাবওয়ের চেয়ে অনেক দ্রুত এবং কম খরচে করা সম্ভব (১ বছর বনাম ৩ বছর)। আর বাসের ছাদের বিরাট স্কাইলাইটগুলো এর যাত্রীদের মনকে প্রফুল্ল রাখবে বলেও মনে করছেন তারা।

রনপা বাস সরাসরি বিদ্যূৎ ব্যবহার করে চলবে। এই বিদ্যূতের যোগান দুই উপায়ে হতে পারে। একটি পদ্ধতিতে রাস্তার পাশে কিছুদুর পর পর চার্জিং পোস্ট থাকবে। এর থেকে একটা অংশ বাসের ছাদের চার্জিং রেইলকে স্পর্শ করে থাকবে। চার্জ করার পোস্টগুলো এমন দূরত্বে থাকবে যে, বিরাট বাসটি একটা চার্জ পোস্ট থেকে বের হওয়ার মুহুর্তে পরের চার্জ পোস্টের স্পর্শ পেয়ে যাবে। এটাকে রিলে চার্জিং বলে। অন্য পদ্ধতিতে ছাদের উপরে সুপার ক্যাপাসিটর থাকবে: প্রতিটা স্টপেজে এ দ্বারা খুব দ্রুতগতিতে বাসে থাকা ব্যাটারী চার্জ হয়ে যাবে। একটা স্টপেজে নেয়া চার্জ দিয়ে বাসটা পরের স্টপেজ পর্যন্ত যেতে পারবে, সেখানে আবার চার্জিং হবে। আর স্টপেজের ছাদের সোলার সেল থেকেও এই বিদ্যূৎ যোগাড় করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে বাস থেকে কোনরকম ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হবে না।

এছাড়া এই বাসের মধ্যে কয়েক রকম সেন্সর থাকবে। এর তলা দিয়ে চলন্ত কোন গাড়ি এর পাশে বাসের ফ্রেমের/চাকার বেশি কাছে চলে আসলে এটা অ্যালার্ম দিয়ে সেই গাড়িগুলোকে সতর্ক করবে। এর স্ক্যানার এর পেছন থেকে আসা গাড়িগুলোকে স্ক্যান করে এর তলা দিয়ে যাওয়ার মত উচ্চতা না হলে সেগুলোকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্য সংকেত দিবে। এছাড়া এটা মোড় ঘোরার আগেই এর নিচে থাকা গাড়িগুলোকে আলোর সংকেত দিয়ে জানাবে যে আমি সামনে মোড় ঘুরতে যাচ্ছি। বিআরটি পদ্ধতিতে বাসগুলো কোন মোড় পার হওয়ার সময় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সবুজ বাতি পায়। এই বাসেও সেই ধরণের ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাস কোন মোড়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এটার জন্য সবুজ সংকেত আর অন্য পথগুলোতে লালবাতি দেখাবে। এর তলে থাকা গাড়িগুলো মোড় পার হতে চাইলে এর সাথে চলে যেতে পারে, নাহলে ওদের লাল বাতি মেনে দাঁড়িয়ে যেতে হবে।

দুই লেন রাস্তার প্রশস্থতার সাথে মিলিয়ে এই বাসগুলো ৬ মিটার প্রশস্থ হবে, আর ওভার পাস ইত্যাদির তলা দিয়ে বাধাহীন ভাবে যাওয়ার জন্য এর উচ্চতা হবে ৪ থেকে ৪.৫ মিটার। কখনও বিরাট দূর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের বের হওয়ার জন্য এর পাশের দেয়ালগুলো ইমার্জেন্সি দরজা হিসেবে নিচের কব্জায় ভর করে স্লাইডারের মত স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে - অনেকটা বিমানের ইমার্জেন্সিতে যেভাবে নামতে হয় সেভাবে।

গত বছরের শেষেই এই বাস তৈরী শুরু হওয়ার কথা। কে জানে আজ থেকে ৫০ বছর পরে যানজট জর্জরিত বিরাট নগরগুলোতে এটাই হয়তো টেকসই গণপরিবহন হিসেবে গৃহিত হবে। তবে, এই ধরণের বৈপ্লবিক আইডিয়াগুলোকে অনেক অপপ্রচার ও বাঁধা পার হতে হবে কারণ এ ধারনাগুলো বিস্তার লাভ করলে ক্ষতি হবে প্রতিষ্ঠিত কার ইন্ডাস্ট্রির।

তথ্যসূত্রসমূহ:
http://www.imageclix.com/img-miscellaneous-13-longest-traffic-jam-208.htm

রনপা বাস:
http://www.smartplanet.com/blog/thinking-tech/chinas-car-straddling-bus-8212-and-its-creativity-in-clean-tech/4934
http://i56.tinypic.com/1z3t5yu.jpg
http://www.archdaily.com/wp-content/uploads/2010/08/1282309604-bus-528x275.jpg
http://youtu.be/Hv8_W2PA0rQ

লম্বা বাস:
http://www.smartplanet.com/blog/thinking-tech/worlds-largest-bus-seats-300-passengers/9942
http://tech-us.bdnews24.com/details.php?shownewsid=3370

লম্বা সেতু:
http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_longest_bridges_in_the_world
http://www.popsci.com/technology/article/2011-07/china-opens-worlds-longest-sea-bridge-toppling-american-record-holder
http://www.nola.com/traffic/index.ssf/2011/06/causeway_refuses_to_relinquish.html

মেগলেভ:
http://en.wikipedia.org/wiki/Maglev

দ্রুততম রেলগাড়ি:
http://en.wikipedia.org/wiki/High-speed_rail
http://www.telegraph.co.uk/news/worldnews/asia/china/8506370/Fastest-trains-in-the-world.html
http://www.smartplanet.com/blog/thinking-tech/chinas-new-bullet-train-is-worlds-fastest-smashes-record/9656?tag=content;siu-container

স্টেশনে না থেমেই যাত্রী উঠানামার কৌশল:
http://www.youtube.com/watch?v=p9Ig19gYP9o

কমোডনামা-২


কমোড দেখেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া বাংলাদেশে অসম্ভব নয়। আর কমোডের ব্যবহার কিভাবে করতে হয় জানেন না সেরকম লোকেরও অভাব নাই দেশে। তবে কমোড সঠিকভাবে ব্যবহারের তরিকা জানেনা বিদেশেও এরকম লোক পাওয়া যায় বলেই মনে হয়। না না প্রবাসী বাঙালী না, একেবারে প্রথম বিশ্বের আসল এবং খাঁটি বিদেশীর কথাই বলছি। সেজন্যই জাপানে টয়লেটের দরজার ভেতরের দিকে কিংবা কমোডের ঢাকনার উপরে, অথবা টয়লেটের ভেতরে এমন কোন জায়গায় - যেখানে সহজে চোখে পড়ে: এই ছবির মত নির্দেশাবলী দেখতে পাওয়া যায়।


কমোড ব্যবহার না জানা কোন অপরাধ নয়। মায়ের পেট থেকে কেউ এটা ব্যবহার শিখে আসে না, বরং এই জীবনে কোনো না কোনো সময় শিখেছে সবাই। শেখার আগেই এর মুখোমুখি হলে ওজু করার মত সিরিয়াস কাহিনী জন্ম নিতে পারে। আবার "হোটেলে ত্যাগের জায়গা খুঁজে না পেয়ে মোজার মধ্য ইয়ে করে সেটা ছুড়ে বাইরে ফেলতে গিয়ে চলন্ত/ঘুরন্ত ফ্যানে আটকানো এবং দেয়ালে ডিজাইন' -- এই টাইপের গন্ধযুক্ত কাহিনীও জন্ম নিতে পারে; কিংবা, চড়ে বসে পা পিছলে ভেতরে পড়ে যাওয়া, চড়তে গিয়ে কমোড ভেঙ্গে ফেলা, চড়তে সফল কিন্তু এইম করতে বিফল -- এই ধরণের বিদঘুটে কাহিনী ঘটাও অস্বাভাবিক নয়। তাই আমাদের কমোড ওয়ালা টয়লেটের মধ্যেও এমন সচিত্র ব্যবহার বিধি স্টিকি করা বাস্তবসম্মত চিন্তা। বিশেষত যে সকল জায়গায় কিছু ব্যবহারকারী কাছে কমোড নতুন বস্তু হতে পারে সেখানে এরকম শিক্ষনীয় নির্দেশাবলী লাগানো বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। এই মুহুর্তেই এমন জায়গার উদাহরণ মনে পড়ছে: মাঝরাতে কিংবা দুপুরে খাওয়া দাওয়া করানোর জন্য দুরপাল্লার বাস থামে এমন হোটেল/রেস্টুরেন্টে, বড় বড় শপিং সেন্টারের টয়লেট, বিভিন্ন জেলা শহরে আবাসিক হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট।

নতুন কাউকে এক কথায় কমোডের ব্যবহারের তরিকা জানাতে চাইলে এক কথায় বলা যায়, ছোট বাচ্চাদের টয়লেট করার জন্য যেমনভাবে ওদের পটি ব্যবহার করানো হয়, কমোডে বড়রা ওভাবেই কাজ করে। জাপানের এয়ারপোর্টগুলোতে কিংবা শপিং সেন্টারে কোনো কোনো পাবলিক টয়লেটের ভেতরে কিভাবে কমোড ব্যবহার করতে হবে সেটার একটা হাইজিন গাইডলাইনও দেয়া থাকতো। যেমন কোথাও কোথাও পাশে এন্টিসেপ্টিক জেল দেয়া থাকতো। সেই জেল একটা টিস্যূ পেপারে নিয়ে কমোডের সিটটা মুছে তারপর ব্যবহার করার নির্দেশাবলী দেয়া দেখেছি। আবার কোথাও পাশের ঝুলানো জায়গা থেকে কমোডের সিটের উপর দেয়ার জন্য আতিকায় মালা আকৃতির টিস্যূ দেয়া থাকতো। বসার সময় সরাসরি সিটের উপর না বসে টিস্যূ বিছিয়ে বসতে হয়, আর কাজ শেষে ওটাও ফ্লাস করে বাই বাই করতে হয়। এতে চর্মরোগ বা অন্য কোনো ধরণের ইনফেকশন কমোডের রিমের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়া রোধ হতে পারে। দেশেও সবসময় কমোড, বিশেষত অফিসে বা শপিং বা অন্য কোথাকার বারোয়ারী কমোড ব্যবহারের সময় ওর সিট বরাবর টিস্যূ পেপার বিছিয়ে নেই সকলে।

কেউ কেউ বলেন কমোডের ভেতরের পানি ছিটকে এসে গায়ে লাগে যেটা আপত্তিজনক। এটা ঠেকানোর বুদ্ধি পেয়েছিলাম আমার বসের কাছ থেকে। উনি কাজ শুরুর আগে সিট বরাবর টিস্যূ বিছানোর পর কিছু টিস্যূ আবার কমোডের পানিতে ফেলেন। এতে পরবর্তীতে পানি ছিটকে আসতে পারে না।

চরম উন্নত দেশ জাপানে এধরণের নির্দেশাবলী দেখে অবাক হলেও কারণটা জানলে অতটা অবাক হবেন না। জাপানে সাধারণত সবজায়গাতেই প্যান জাতীয় টয়লেট ব্যবহৃত হয়। তবে সেই প্যান বলতে আমাদের দেশে বহুল ব্যবহৃত প্যান বুঝলে ভুল হবে। জাপানীরা সব দিকেই ইউনিক। তাই প্যানগুলো এবং এটা ব্যবহারের তরিকাও ইউনিক (কমোডনামা-১ এ লিখেছিলাম কিছুটা)। দেখুন নিচের ছবি আর নির্দেশাবলী দেখে এটার অভিনবত্ব কিছুটা আঁচ করতে পারেন কি না।




এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কেন ওখানে কমোড ব্যবহারের নির্দেশাবলী জরুরী হতে পারে। তবে আমাদের দেশেই সাধারণ প্যান জাতীয় টয়লেট ব্যবহারের মূল কারণ বা রহস্য অনেকেরই অজানা, যা ফিল্ড লেভেলে কাজ করতে গিয়ে ভালভাবেই টের পেয়েছিলাম। আবার এমন কাহিনীও জানি, যে চাচা মিয়াকে স্যানিটারী ল্যাট্রিন ব্যবহারের কথা জিজ্ঞেস করতেই ভাবের উত্তর "এ্যাঁ! আমারে কি অত বোকা পাইছো যে এ্যাত সুন্দর বনজঙ্গল ছেড়ে ঐ ঘুপচির মধ্যে ইয়ে করতে ঢুকবো!' কাহিনী তো এখানেই শেষ না, আমার কাজের সুপারভাইজার অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত এবং ভাল ছাত্র ছিলেন। কিন্তু উনিই আমি জয়েন করার কিছুদিন আগে এক বাসায় গিয়ে টয়লেটের পাইপে পানি জমে আছে দেখে সেটা লাঠি দিয়ে গুতিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছিলেন!! অবশ্য এতে ওনার দোষ খোঁজা ঠিক না, কারণ বাসার টয়লেটের প্যানের পাইপের নিচের দিকে যে পানি জমা থাকে, সাধারণত: কেউই সেটা তদন্ত করে দেখে না, আর স্কুল বা কলেজ লেভেলে সকলের পাঠ্য কোনো বই পুস্তকেও স্যানিটারী ল্যাট্রিন কেন স্যানিটারী বা স্বাস্থ্য সম্মত সেটার ব্যাখ্যা দেখেছি বলে মনে পড়ছে না।

খোলা জায়গায় ইয়ে করলে সেটা দুর্গন্ধের জন্য যেমন অস্বাস্থ্যকর তেমনি এটা থেকে বিভিন্ন পোকামাকড়, কিংবা পশুপাখি বা সরাসরি কোন মাধ্যমে ক্ষতিকর অসুখ বিসুখ সৃষ্টিকারী জীবানু অন্য মানুষকে সরাসরি বা খাবার সংক্রমিত করে অসুস্থ করতে পারে। তাই খোলা জায়গার বদলে গর্ত করে সেখানে ইয়ে করলে কিছুটা রক্ষা। এতে পশু বা সরাসরি আক্রান্ত হওয়ার (পায়ের তলায় পরা, হোঁচট বা পিছলিয়ে এর উপর পতিত হওয়া ইত্যাদি আরকি) সম্ভাবনা বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু তা সত্বেও পোকামাকড় (মাছি ইত্যাদি) সেখান থেকে জীবানুবাহক হতেই পারে, আর দুর্গন্ধের কথাও সহজে ভুলে থাকা মুশকিল। তাই এর হাত থেকে রক্ষার জন্য অত্যন্ত সহজ একটা পদ্ধতি হল পানি'র তালা বা ওয়াটার সিল। যার মূল অংশ হল ইংরেজী U অক্ষরের মত আকৃতির একটা পাইপ যাতে পানি ভর্তি করা থাকে। এর এক দিক ইয়ে করার দিকে আর আরেকদিক থাকে মলমূত্র জমা হওয়ার স্বাস্থ্যসম্মত গর্তে। স্বাস্থ্যসম্মত গর্ত হল এমন এক গর্ত যেখান থেকে পোকামাকড় বের হওয়ার কোন রাস্তা থাকে না ফলে ওগুলো মলমূত্রের জীবানু বহন করে এসে ভিলেনগিরী করতে পারে না। ঐ গর্তের গন্ধ এবং অন্য গ্যাস বের হওয়ার জন্য একটা লম্বা পাইপ দেয়া থাকে যার মাথা অনেক উঁচুতে থাকে এবং সেদিক দিয়ে পোকার আসা যাওয়া ঠেকাতে মশারী দেয়া থাকে, বৃষ্টির পানি আসা আটকানোর ব্যবস্থা থাকে। কাজেই ঐ পথে বাতাস ছাড়া কিছু আসা যাওয়া করতে পারে না।

তাহলে মলমূত্র এই গর্তে ঢোকে কিভাবে? উত্তর হল ডুব সাঁতার দিয়ে। ঐযে ওয়াটার সিল আছে সেটার একপাশে ইয়ে এসে পানিতে পড়ে তারপর এদিক থেকে আরও পানি ঢাললে তার ধাক্কায় ময়লাটা U এর নিচের দিকে ডুব দিয়ে অপর বাহু দিয়ে বের হয়ে গর্তের মধ্যে পরে। কিন্তু যতই ডুব সাঁতার দিক, স্বাভাবিক অবস্থায় এর মধ্যের পানি শুকানোর কোনো উপায় নাই। ফলে ইধারকা মাল উধার করতে ডুব সাঁতার ছাড়া উপায় নাই। আমরা পানি ঢেলে বা ফ্লাশ করে ইধারকা মাল (মল) উধার করলেও উধারের পোকামাকড় ডাইভ দিয়ে ডুব সাতারের পর ইধার আসতে তেমন একটা উৎসাহ কিংবা সাহস পায়না, তাই পোকামাকড় পুরাপুরিই ভিলেনী করার সুযোগবঞ্চিত থাকে। আর উধারের গন্ধও ইধারে আসা ঠেকিয়ে দেয়া হয় এভাবে। নিচের ছবিটা দেখলে অতি পরিচিত প্যানের মধ্যে সেই ওয়াটার সিলের ব্যবহারটা বুঝতে পারা সহজ হবে।




তবে আমরা যতই নিচু প্যানওয়ালা টয়লেটে অভ্যস্থ হই না কেন কমোড অনেক বেশি আরামদায়ক, কারণ এতে প্যান পদ্ধতির মত হাটু মুড়ে বসতে হয় না। তাইতো হতদরিদ্রদেরকেও কম বাজেটে কমোড বানানোর তরিকা জানিয়ে বই পত্তর পাওয়া যায়। নিচের ছবিগুলো একটা বই থেকে নেয়া। দেখছেন কারবার, ওখানে কিন্তু এই টয়লেটগুলোর নিচে ওয়াটার সিল (বা ট্র্যাপ / Trap) নাই। তবে এরকম করে কমোড বানিয়ে সেখানে ইচ্ছা করলেই লাগিয়ে নেয়া যায়।


উপরের ছবিগুলো আফ্রিকা মহাদেশের কোন এক দেশের একটা প্রজেক্টের ছবি। আমাদের দেশে ঝোপ ছেড়ে ছোট ঘরে ঢুকতে চায়না - এমন ব্যক্তি আছে তা তো আগেই বলেছি। আবার অনেকেই কমোডের পটি সিস্টেমের সুখের চেয়ে আগের পরিচিত পদ্ধতি ব্যবহার করতে চায়। এখন উভয় পক্ষকে খুশি রাখার জন্য এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের প্রচেষ্টার অন্ত নাই। তাইতো নিচের ছবির মত হাইব্রীড সিস্টেম বানিয়েছে। প্যান আর কমোড দুই ধরণের ব্যবহারকারীই এটাতে ত্যাগের সুখ লাভ করতে পারবেন!


আমি জাপানে যেই এ্যাপার্টমেন্টে থাকতাম ওখানকার কমোড ছিল নিচের ছবির মত। পানির কল বা স্প্রে না থাকলে কি হবে, হাত ধোয়ার জায়গা আছে!! টেকনোলজি হিসেবে চিন্তা করলে এটা আহামরি কিছু না। ফ্লাশ করার পর পানি ভেতরেই পরতো, সেটাকেই অতিরিক্ত পাইপ যুক্ত করে বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে।


টিস্যূ পেপার দিয়ে আমার হয় না, তাই  টয়লেটে ব্যবহারের জন্য গোছলখানা থেকে একটা লম্বা পাইপ দিয়ে স্প্রে (হ্যান্ড শাওয়ার) লাগিয়ে নিয়েছিলাম। দেশের কমোডের সাথে হ্যান্ড শাওয়ার কিংবা বদনার ব্যবস্থা থাকে, যেটা জাপানে খুব মিস করতাম। আমার ধারণা আরো অনেক লোকই এই ব্যাপারটা মিস করতো, তাই অতীতে বিডেট বা বিডে নামক ধৌতকরার এক প্রকার কমোড মূল কমোডের পাশাপাশি ব্যবহার ব্যবহার করা হয়। এটা মূলত ফরাসী আবিষ্কার, তবে বাংলাদেশেও দুই এক জন এমন সিস্টেম করেছে এমন কথা শুনি ডেভেলপারদের কাছ থেকে।

না না ভয় পাওয়ার কিছু নাই। এক জায়গায় ত্যাগ করে আরেক জায়গায় উঠে এসে ধৌত করতে হবে না। বর্তমানে একেবারে মনমত টু-ইন-ওয়ান বিডে টয়লেট পাওয়া যাচ্ছে। সত্যি বলতে কি এই বিডেগুল আমি এখনও খুব মিস করি। বেশি ব্যাখ্যার দরকার নাই ছবি দেখেন। কাজ শেষে সুইচ টিপলেই একটা পাইপ বের হয়ে গরম পানির ধারা দিবে। এই পানির গতি, তাপমাত্রা কিংবা নজেলের প্রকৃতি সবই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


সাধারণ কমোডের উপরের সিটটাকে পাল্টিয়ে নিয়ে ওটাকেই এই ধরণের বিডে টয়লেটে পরিবর্তন করা যায়। এটা লাগাতে ফ্লাশ ট্যাংকের জন্য থাকা পানির লাইন আর একটা ইলেক্ট্রিক পাওয়ার লাইন লাগবে।


২০০১ সালে সুইজারল্যান্ডে একবার ইউরোপের খ্যাতনামা Geberit কম্পানির কারখানায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিলো শিক্ষা সফরে। সেখানে প্রথম এই রকম অত্যাধুনিক বিডে দেখেছিলাম। তবে ব্যবহার করার সুযোগ হয়েছে আরো কয়েকবছর পরে জাপানে। জাপানে উল্টা প্যান দেখে যা কিছুই ভাবেন না কেন, সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা সবচেয়ে বড় বাথরুম ফিটিংস কারখানা Toto কিন্তু জাপান থেকেই যাত্রা শুরু করেছিলো (১৯১৭ সালে)।

ছবি সংগ্রহের সূত্রসমূহ:
http://www.asianjoke.com/wp-content/uploads/2009/07/japanese-toilet-signs-and-rules-in-japan.jpg
http://farm5.static.flickr.com/4114/4916207630_96026d602e_o.jpg
http://dadsprimalscream.files.wordpress.com/2011/03/japanese-toilet.jpg
http://dadsprimalscream.files.wordpress.com/2011/03/toilet.jpg
http://www.mikesblender.com/how%20to%20use%20japanese%20toilet.jpg
http://www.spaciousplanet.com/images/world/thumbnails/japanese-bidet12726607892591.jpeg
http://gallerydejavu.com/wp-content/uploads/2011/10/japanese-toilet.jpg
http://en.wikipedia.org/wiki/Bidet
http://donkeymon.net/donkeymon/images/galleries/Life%20in%20Japan/05-toilet.jpg
http://www.toddswanderings.com/wp-content/uploads/2010/12/Japanese-Toilet.jpg
http://www.ecosanres.org/pdf_files/ToiletsThatMakeCompost.pdf
http://en.wikipedia.org/wiki/Flush_toilet
http://outsiderjapan.pbworks.com/f/1297364772/Bidet2.jpg
http://www.terrylove.com/fh.htm
http://helid.digicollection.org/en/d/Jh0210e/3.3.6.html
http://www.totousa.com/WhyTOTO/AboutTOTO/History.aspx
http://green-living-made-easy.com/toto-toilets.html

সবুজ ছাদ বা Green Roof

ছাদের উপরে বাগান করা নতুন কোন বিষয় নয়। তবে সবুজ ছাদ বা গ্রীন রুফ বলতে এই বাগান করার বিষয়টাকে দুই একটা টবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটা বিশেষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া বুঝানো হয়ে থাকে। উইকিপিডিয়া অনুসারে একটা ভবনের ছাদ পুরোপুরি বা বা কিছু অংশ পানি নিরোধী আবরণের উপরে বৃদ্ধি উপযোগী কোন মাধ্যমে জন্মানো গাছপালা দিয়ে আচ্ছাদিত থাকলে একে green roof বা সবুজ ছাদ বলা হয়। এটার মধ্যে শিকড় প্রতিরোধী স্তর, পানিনিষ্কাশন স্তর ও সেঁচ দেয়ার জন্য স্তরও থাকতে পারে। 'সবুজ' কথাটা দিয়ে ছাদের মেঝের টাইল বা আস্তরে কখনো কখনো ব্যবহৃত সবুজ রংকে বোঝানো হয় না বরং এ দ্বারা প্রকৃতি বা পরিবেশ বান্ধবতাকে বুঝানো হয় - তাই, ছাদের উপরে কৃত্রিম পুকুরে বাসার পয়ঃপ্রণালীর পানি পরিশোধন করাটাও সবুজ ছাদের একটা প্রকারভেদ হতে পারে।

সিঙ্গাপুরের Nanyang Technological University ক্যাম্পাসে সবুজ ছাদ (source: http://www.vitodibari.com)


সবুজ ছাদ বলতেই ছাদের উপরে পাতলা স্তরে মাটি ফেলে কিংবা অন্য উপায়ে মাটি দিয়ে বাগান করা বুঝালেও আমার মনে প্রথমেই যেই ভাবনা আসে সেটা হল মরিচ, করল্লা, লাউ ইত্যাদি সব্জীর কথা। ছাদে এরকম অর্থনৈতিক ভাবে সরাসরি লাভজনক কাজ করা যায় বেশ ভালভাবেই। ইচ্ছা করলে এর ওর বাসায় পাঠানো যায়, বিক্রয়ও করা যেতে পারে। মরিচের বাজারে আগুন লাগলে ছাদে লাগানো মরিচ গাছ থেকে হাত বাড়িয়ে মরিচ নিয়ে রান্না করবেন - খুবই আনন্দের কথা। কিংবা কারো কারো মত ড্রামে আমগাছও লাগানো যেতে পারে।

আরে থামেন থামেন। তরিতরকারী চাষের আর আলু পটলের গল্প ফাঁদার জন্য গ্রীন রুফ বা সবুজ ছাদ নিয়ে পোস্ট দিতে আসিনি। বর্তমানে পরিবেশ প্রকৌশল এবং ভবন নির্মান ও স্থাপত্য বিদ্যায় সবুজ ছাদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমনকি কোথাও কোথাও (যেমন টরন্টো, কানাডা) সবুজ ছাদ করা নিয়ে আইনও তৈরী হয়েছে, সবুজ ছাদ করলে বিভিন্ন ভর্তূকী এবং পরিবেশবান্ধব ভবনের সার্টিফিকেটও পাওয়া যায় আমেরিকা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। আলু-পটল ছাড়াও এইটা নিয়ে মাতামাতির অন্য কারণগুলো একটু একটু করে এখানে বলার চেষ্টা করি। তবে কারণ বলার আগে এটার ফলে ভবনে কী পরিবর্তন করতে হবে সেটা বলে নেই -- না বললে কারণসমূহ পড়ার সময়েই ওগুলোর দুশ্চিন্তা মাথায় কুটকুট করতে থাকবে হয়তো।

জাপানের ফুকুওকার একটা ভবনে সবুজ ছাদ

ছাদের উপরে মাটি তুলে তাতে চাষবাস বা বাগান করলে তা ভবনে অতিরিক্ত ভার দেবে। হ্যাঁ এই ওজনটা হেলাফেলা করে অবহেলা করার মত না। আমরা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংএ পুরাতন নিয়মে বাসাবাড়ি বা ভবন নকশা করার সময়ে কাঠামোর নিজের ওজন ছাড়াও প্রতি বর্গফুটে ৪০ পাউন্ড নড়নচড়নশীল ওজন (লাইভ লোড) ধরে হিসাব কিতাব করি।  এই ওজনটা হল আদমের ওজন  + আদমদের ব্যবহৃত আসবাবপত্রের ওজনের জন্য। তবে স্কুল, কমিউনিটি হল, লাইব্রেরী, মসজিদ, বাসার সিড়ি এসবে এই লাইভ লোড ধরি ১০০ পাউন্ড/বর্গফুট (psf) --- বুঝতেই পারছেন এসব জায়গায় অনেক বেশি আদম জড়ো হবে + নড়াচড়া করবে - তাই অতিরিক্ত সতর্কতা। মাটির ওজন হল প্রতি ঘনফুটে ১১০ পাউন্ড -- এটা অবশ্য ভাল ভাবে দুরমুজ করে জমাট বাধানো (কম্প্যাক্ট করা) মাটির জন্য। গাছ লাগানোর মাটি হালকা ঝুরঝুরা থাকবে, পিটিয়ে শক্ত করা ঘন মাটি হবে না, তাই ছাদে ১ ফুট গভীরতার মাটি ফেললে অতিরিক্ত ওজন আসবে ১১০ পাউন্ড/বর্গফুটের চেয়ে কিছুটা কম। এর সাথে সেচের পানির ওজন, পানিরোধী আবরণ স্তরের ওজন, শিকড় বিকর্ষণকারী স্তর, এবং ড্রেনেজ স্তরের জন্য সামান্য অতিরিক্ত কিছুটা ওজন যুক্ত হতে পারে। কাজেই বেশি পরিমান মাটি ফেলে সারা ছাদকে বাগান বানাতে চাইলে ভবন নকশার সময়েই ছাদে অতিরিক্ত ওজন বহনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আবশ্য যদি ৩ ইঞ্চি মাটি দেই তাহলে প্রায় ২৮ পাউন্ড/বর্গফুট ওজন আসবে, যা আগের তৈরী ভবনের ছাদেও সমস্যা করবে না বলে আশা করা যায় (৩ ইঞ্চি মাটিতে মরিচ করল্লা ছাড়াও আরও অনেক রকম গাছ হতে পারে :-) )। কাজেই ছাদের উপরে পলিথিন কিংবা পীচ/আলকাতরা ঢেলে পানিরোধী ক্ষমতা বাড়িয়ে তারপর মাটি দিয়ে বাগান প্রজেক্ট শুরু করা যেতে পারে। মাটি ফেলেই যে করতে হবে এমন কথা নাই। গায়ে গায়ে লাগানো টব কিংবা চ্যাপ্টা ট্রে টাইপের আধারে মাটি নিয়েও এই কাজ করা যাবে। তবে ছাদের উপর টবে বাগান করলে সেটাকে সত্যিকার সবুজ ছাদ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না, যদিও এটা একটা বিতর্কের বিষয়।

দুই প্রকারের সবুজ ছাদ আছে: নিবিড় ছাদ (intensive roofs) এবং বিস্তৃত ছাদ (extensive roof); নিবিড় ছাদে উদ্ভিদের পরিমান বেশি হয় এবং এটা এটাতে বহু প্রকার উদ্ভিদ জন্মাতে পরে, তবে এরকম ছাদের অধিক পরিমান পরিচর্যার দরকার হয়, অপরপক্ষে বিস্তৃত ছাদে হালকা ঘনত্বের গাছপালা থাকে এবং এটার মাটি নিবিড় ছাদের চেয়ে কম গভীরতা সম্পন্ন।

পূর্বে প্রস্তুত করা ট্রে পদ্ধতিতে খুব সহজে সবুজ ছাদ তৈরী করা যায়
আরো পাতলা স্তরের মাটিতে ম্যাটের মধ্যে সামান্য মাটিতে টিকতে পারে এমন উদ্ভিদও লাগানো যেতে পারে

যারা এখনও আমার চাপাবাজিতে আশ্বস্থ হতে পারেননি বিশেষত তাদেরকে চিপা দিয়ে একটা কথা বলি: পৃথিবীতে বেশ অনেক ভবনে, বিশেষত বড় হোটেলের ছাদে সুইমিং পুল আছে। সেইরকম একটা পুল তৈরী করতে চাইলে প্রতি ফুট গভীর পানির জন্য ৬২.৪ পাউন্ড/বর্গফুট করে ওজন যুক্ত হবে (পানির ঘনত্ব = ৬২.৪ পাউন্ড/ঘনফুট)। বেশি না মাত্র গলা সমান বা ৫ ফুট গভীর পুল করলেই সেক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ৩১২ পাউন্ড লাইভ লোড ধরে নকশা করতে হয় :-) ।

এবার আসি সবুজ ছাদের সুবিধার কথায়।
সবুজ ছাদ ব্যবহার করলে ছাদের আয়ু নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। কারণ, এর উপরে পানিরোধী স্তর সহ বিভিন্নরকম কেরামতি করা হয়। তাই আবহাওয়ার প্রবল দুষ্টু থাবা থেকে এটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে। ফলে ছাদ মেইনটেনেন্সের খরচ কমে যায়। এছাড়া এরকম সৌন্দর্য বর্ধনের ফলে স্থাপনার সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি পায়।

সবুজ ছাদ ব্যবহার করা হলে তা একেবারে উপরের তলার ঘর ছাদের কারণে অতিরিক্ত গরম হওয়া রোধ করে। কারণ নাঙ্গা ছাদের কংক্রিটে যখন সূর্যের তাপ এসে পড়ে, সেই তাপ কংক্রিট শোষণ করে এবং প্রায় পুরাটাই আবার নিচের দিকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু গাছপালা সূর্যের তাপ পুরা শোষণ করে, সেই তাপ ব্যবহার করে নিজের সালোকসংশ্লেষন করে পাতার পানি বাষ্প আকারে বাতাসে ছেড়ে দেয়, তাই এক ফোটা তাপও গাছ ভেদ করে নিচের দিকে আসতে পারে না। যদি আসেও সেটা আবার মাটিতে থাকা পানিকে বাষ্পীভবনে ব্যয় হয়। ফলে উপরের ছাদ অন্য তলার ছাদের মতই ঠান্ডা থাকে।

উন্মুক্ত ছাদের এই গরমের অসুবিধার কারণেই টপ ফ্লোরগুলো অন্য ফ্লোরের মত কেউ কিনতে বা ভাড়া নিতে চায় না। এমনকি  জলছাদ দেয়ার পরেও গরমের আশংকায় টপ ফ্লোর কেউ ভাড়া নিতে বা কিনতে চায় না। ফলে বাধ্য হয়ে ডেভেলপারকে ঐ ফ্লোর কম দামে বিক্রয় করতে হয়। কিন্তু সবুজ ছাদ করলে সৌন্দর্যের কারণে সামগ্রীক ভবনের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি টপ ফ্লোরের গরমও থাকে না - মূলত এই কারণেই এখনকার ডেভেলপারগণ ভবনের নকশা করার সময়ই ছাদে বাগান করার ব্যবস্থা করে।

কম পরিমানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ দরকার হয়, এর ফলে শতকরা ৫০ থেকে ৯০ ভাগ কম শক্তি খরচ করতে হয়। সবুজ ছাদ করলে এই অতিরিক্ত ক্ষমতার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের স্থাপনা খরচ লাগে না - তাই ছাদ ও বাগান করার অতিরিক্ত খরচটা এখানেই পুষিয়ে যায়। সবুজ ছাদ করতে প্রতি বর্গমিটারে ২০ - ৪০ ডলার খরচ হয় বলে বিভিন্ন জায়গায় লিখেছে। আমাদের দেশের ডেভলপারদের করা সবুজ ছাদে এই খরচ আসে আরো অনেক কম (প্রায় ৭৫০ টাকা /বর্গমিটার)। তাহলে ব্যক্তিগত লেভেলে হিসাবটা এমন হতে পারে -- আমার বেডরুমের আকার প্রায় ১২ বর্গমিটার (১ বর্গমিটার = ১০.৭৬ বর্গফুট)। এটার উপরে সবুজ ছাদ দিতে খরচ হবে প্রায় ৯০০০ টাকা। ১.৫ টনের এসির বদলে ১ টনের এসি কিনতে আমার কমপক্ষে ৯০০০ টাকা সাশ্রয় হলে সবুজ ছাদ করা সৌন্দর্যের মূল্য বাদেই সরাসরি লাভজনক। আর কম ক্ষমতার তাপানুকুল যন্ত্রের কারণে মাসে অন্তত ২০০টাকার বিদ্যুৎ বিল কমে আসবে।

অন্য সুবিধা বলার আগে তাপজনিত আরেকটা সুবিধা জানানো দরকার। শহরের কংক্রিটের জঙ্গলে তাপ শোষণকারী গাছের অভাবে এবং গাড়ি এবং ঘরের এয়ার কন্ডিশনার ও অন্য যন্ত্রপাতির কারণে আশেপাশের গাছপালাওয়ালা এলাকার চেয়ে তাপমাত্রা বেশি হয়। ঢাকার রাস্তায় শাহবাগ থেকে ফার্মগেট এলাকা পার হয়ে রোকেয়া সরনী কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকলেই এই কথার সত্যতা চামড়ার অনুভূতিতেই টের পাওয়া যায়। শহরের কেন্দ্রে এভাবে আশেপাশের অঞ্চল থেকে ৩ থেকে ৯ ডিগ্রী পর্যন্ত তাপমাত্রা বেশি হতে পারে - যাকে তাপদ্বীপ প্রতিক্রিয়া বা Heat Island Effect বলা হয়। সবুজ ছাদ এই তাপদ্বীপ হওয়া থেকে অনেকটাই সুরক্ষা দিতে পারে। বিশেষত যদি ছাদের বাগানটিকে কাঁচে দিয়ে আবৃত করা যায় তবে এটা একটা পরোক্ষ সৌরশক্তি সংরক্ষণাগার হিসেবে কাজ করে। শহরের কোন এলাকায় এমন সবুজ ছাদের সংখ্যা ও ঘনত্ব বৃদ্ধি পেলে তা গ্রীষ্মকালে শহরের গড় তাপমাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।

ব্রাড ব্যাস (Brad Brass) ২০০৫ সালে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা গবেষণায় দেখান যে সবুজ ছাদ ব্যবহারের ফলে শীতকালেও ঘর থেকে তাপ হারানোর হার কমে যায় ফলে শীতে ঘর গরম রাখতেও কম শক্তি খরচ করতে হয়। এছাড়া সবুজ ছাদ ও গাছপালা ভবনকে শব্দনিরোধী করতে সাহায্য করে; মাটি নিম্ন কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ আটকায়, উদ্ভিদ উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ আটকায়।

এরকম ছাদ বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পরিমান কমিয়ে দেয়। পানির অনেক অংশই মাটিতে ও গাছে রয়ে যায়। আর মাটির মধ্য দিয়ে পরিশ্রুত হয়ে ড্রেনেজে আসলেও তাতে উন্মুক্ত ছাদে পতিত হয়েই গড়িয়ে আসার চেয়ে সময় লাগে অনেক বেশি। ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের নালায় কম চাপ পড়ে। ফলে হঠাৎ ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট শহুরে জলাবদ্ধতা কম হয়। এছাড়া এই উদ্ভিদ ও মাটির বাধা বৃষ্টির পানি থেকে ভারী ধাতু এবং দূষনকারী পদার্থসমূহকে পরিশ্রুত করে। গাছপালা বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষন করে অক্সিজেন দেয়। এছাড়া ঘন সন্নিবেশিত গাছের পাতাগুলোতে ধূলাবালি থিতানোর জায়গা পায়, ফলে তা দূষনকারী পদার্থসমূহকে পরিশ্রুত করে, যা হাঁপানীর মত রোগ হওয়ার হার কমাতে সাহায্য করে।

ঠিকভাবে স্থাপন করা হলে জীবিত ছাদ ভবনকে LEED পয়েন্ট পাইয়ে দিতে পারে। (LEED এর সম্পুর্ন নাম Leadership in Energy and Environmental Design - এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সবুজ ভবন সার্টিফিকেশন পদ্ধতি। যুক্তরাস্ট্রের সবুজ ভবন কাউন্সিল - U.S. Green Building Council বা USGBC, ২০০০ সালের মার্চ মাসে এই পদ্ধতিটি উন্নয়ন করেন। LEED ভবন মালিক এবং পরিচালনাকারীদেরকে ভবনকে পরিবেশবান্ধব করার জন্য পরিমাপযোগ্য এবং বাস্তবসম্মত উপায়গুলো চিহ্নিত এবং সংশোধনের জন্য নকশা, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করার একটা সুনির্দিষ্ট ও সুবিন্যস্ত নির্দেশনা দেয়।)।

"সবুজ ছাদ' দ্বারা সবুজ বা পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এমন ছাদকেও বুঝানো হয়ে থাকতে পারে; যেমন ঠান্ডা ছাদ, যেই ছাদে সৌরশক্তি সংগ্রহের জন্য সৌরকোষ বা সোলার প্যানেল ব্যবহার করা হয়। সবুজ ছাদকে আরও কয়েকটা নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে যেমন: eco-roofs, oikosteges, vegetated roofs, living roofs, greenroofs and VCWH[1] (Horizontal Vegetated Complex Walls)। সবুজ ছাদ একটা স্বনির্ভর ভবনের অন্যতম প্রধান অংশ।

সবুজ ছাদ তৈরী করলে কৃষিভূমি বৃদ্ধি পায়। ছাদে ফুল, ঘাস লাগানো ছাড়াও বিভিন্ন তরি তরকারীও এবং ফসল ফলানো যায়। যা উপরে উল্লেখিত সুবিধাগুলোতে আরো নতুন মাত্রা যোগ করে। 

বিশ্বাস করা মুশকিল যে এটা কিছুর ছাদ
সবুজ ছাদের আরেকটা বিরাট উপকার হল এটা কীটপতঙ্গ ও অন্য প্রাণীদের প্রাকৃতিক বিচরণক্ষেত্র বা আবাসভূমি তৈরী করে। ইউরোপ এবং আমেরিকার বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, সবুজ ছাদে বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর প্রাণী টিকে থাকতে পারে। ফলে জীববৈচিত্র বৃদ্ধি পায়। বিশেষত নগরায়ণের ফলে বিভিন্ন পশু, পাখি, কীট পতঙ্গের আবাসস্থল যেভাবে হারিয়ে যাচ্ছে তার অনেকটাই সবুজ ছাদের সাহায্যে পুনস্থাপন করা সম্ভব। প্রাণী ও কীটপতঙ্গের উপস্থিতি আমাদের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরী বিষয়। তাই সবুজ ছাদ হারিয়ে যাওয়া প্রকৃতিকে ফিরিয়ে দিতেও ভাল ভূমিকা রাখতে পারে। কাকের পাশাপাশি কোকিলের ডাক, ঘুণের শব্দের পাশাপাশি ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ফেরত পেতে সবুজ ছাদ হতে পারে একটা ভাল উপায়।

তথ্য ও ছবির সূত্রসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট কিছু লিংক:
উইকিপিডিয়া: http://en.wikipedia.org/wiki/Green_roof
http://www.greenroofs.com/Greenroofs101/
http://www.greenroofs.org/
http://www.toronto.ca/greenroofs/
http://www.greenroof.se/