বাংলাদেশে আর্সেনিক - পর্ব ৬ : আর্সেনিক দূরীকরণ প্রযুক্তি (১)

আর্সেনিক দূরীকরণের প্রযুক্তি

প্রায় সমস্ত আর্সেনিক দূরীকরণ যন্ত্রই উপরের এক বা একাধিক মূলনীতি মেনে কাজ করবে, এই হিসেবে নকশা করা হয়েছে। নিচে কয়েকটি আর্সেনিক দূরীকরণ যন্ত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

১. সাধারন বালুর ফিল্টার

এটি পারিবারিক পর্যায়ে ব্যবহারোপযোগি সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। অবশ্য এতে আর্সেনিক দুরীকরণের হার শতকরা প্রায় ৫০শতাংশ। তবে ব্যবহারের মাত্রা অনুসারে নির্দিষ্ট সময় পরপর (প্রায় এক মাস) বালু পরিবর্তন আবশ্যক। এতে অধক্ষেপ আকারে আর্সেনিক দূর হয় এবং বালুর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে সেই অধক্ষেপগুলো বালুর উপরে এবং ভেতরে আটকে যায়, ফলে আর্সেনিক দূরীভুত হয়।

এটি সহজেই তৈরী করা সম্ভব: বালতি বা ছোট ড্রামের ভেতরে প্রায় অর্ধেক বালু ভরে, এবং সেই পাত্রের নিচের দিকে একটি কল লাগিয়ে এটি বানানো যায়। তবে কলটি সরাসরি বালু থেকে পানি নিলে, পানির সাথে বালু চলে আসে। তাই বালতি বা ড্রামের তলে ফিল্টার পাইপের (নলকূপে যে ফিল্টার পাইপ ব্যবহৃত হয়) ছোট একটা টুকরা আনুভুমিক ভাবে শুইয়ে দিয়ে এক পাশ কলের সাথে লাগিয়ে এবং অপর পাশ বন্ধ করে দিয়ে, তার উপরে বালু ভরে পরিষ্কার পানি পেতে সমস্যা হবে না কোনক্রমেই। টুকরা ফিল্টার পাইপের একমাথা বন্ধ করার জন্য পলিথিন দিয়ে মুড়ে আঠালো টেপ দিয়ে আটকে দেয়া যায়; অপর মাথা হতে কলের মাথা (যেটা বালতি/ড্রামের ভেতরে থাকবে) পর্যন্ত আরেকটি পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে দুদিকেই আঠালো টেপ দিয়ে আটকে দেয়া যায়।

২. সনো ৩-কলসি পদ্ধতি

এটিও পারিবারিক পর্যায়ে ব্যবহারোপযোগী , সহযোজন পদ্ধতিতে আর্সেনিক দূর করার একটি পদ্ধতি। এতে সহযোজি পদার্থ হিসেবে গুড়া লৌহ বা লৌহকণা ব্যবহার করা হয়। তাছাড়াও সাহায্যকারী হিসেবে কয়লা ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একটি পুরষ্কার পেয়েছে বলে পত্রিকায় দেখলাম।

এটি ৩টি মাটির কলসি একটার উপরে আরেকটি বসিয়ে তৈরী হয়। কলসি বসানোর জন্য একটা ফ্রেম হলে ভাল না হলেও তেমন অসুবিধা নাই। উপরের দুটি কলসির তলে পানি পড়ার জন্য একটা করে ফুটো থাকে, ফুটাগুলির উপরে একটা সিনথেটিক কাপড় আর কিছু ইটের টুকরা দেয়া হয় যেন কলসে অবস্থিত অন্য বস্তু পড়ে না যায় সেজন্য। মাঝের কলসে কয়লা বালুর ও ইটের ছোট টুকরার মিশ্রন (২ কেজি + ১ কেজি + ২ কেজি) থাকে । উপরের কলসে ৩ কেজি ঢালাই লোহার গুড়া/কণার উপরে ২ কেজি বালু বিছিয়ে দেয়া থাকে। এই কলসে পানি ঢালা হয় তা পর্যায়ক্রমে বালু, লোহার গুড়া, কয়লার মিশ্রনের ভিতর দিয়ে চুইয়ে আর্সেনিকমুক্ত হয়ে নিচের কলসে গিয়ে জমা হয়।
এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত সবকিছুই দেশের সবজায়গায় পাওয়া যায়, আর পদ্ধতিটিও খুব সহজ এবং সস্তা বলেই এটি পুরষ্কার পেয়েছে বলে শুনেছি (পড়েছি)। তবে, একটি গ্রামে এটি একবার পরীক্ষা করে দেখেছিলাম যে, মাসখানেক ব্যবহার করার পর লৌহগুড়াগুলো জমাট বেধে গিয়েছিল। ফলে পানি প্রবাহের পরিমান অসুবিধাজনক পর্যায়ে কমে গিয়েছিল। আমার ধারণা ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তির গবেষকগণ এই অসুবিধার সমাধান বের করেছেন।


চিত্র: Evaluation of Performance of Sono 3-Kolsi Filter for Arsenic Removal from Groundwater Using Zero Valent Iron (Munir et al.) হতে গৃহিত।

(......চলবে)

1 টি মন্তব্য:

Robu said...

http://sites.google.com/site/bdarsenic
http://sites.google.com/site/bdarsenic/_/rsrc/1252052043570/home/2009-09-04_141056.gif
http://arsenicbd.blogspot.com