কমোড নামা

(পূর্বে প্রকাশিত হয়েছিলো)

ফুকুওকা এয়ারপোর্টটা আমার খুব পছন্দ। কারণ একটাই: গরম পানিওয়ালা গরম কমোড। ঢাকা থেকে মিয়াজাকি আসার পথে ফুকুওকা-ই আমার জন্য জাপানের সুবিধাজনক গেটওয়ে। সাধারণত: ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুর পড়ে ট্রানজিট হিসাবে। এয়ারপোর্টগুলো ঘুরাঘুরি করতে মন্দ লাগে না, কিন্তু সমস্যা একটাই - টয়লেট! স্প্রে গান ওয়ালা কমোড টয়লেট নাই; টিস্যূ পেপারে কাম সারতে পারি না কিছুতেই - দুই একবার ট্রাই করে ক্ষান্ত দিছি। পানির বোতল নিয়ে ঢুকি, কিন্তু বদনার কাম কি আর বোতলে হয়!

ফুকুওকা এয়ারপোর্টে পৌছে প্রতিবারই হাফ্ ছেড়ে বাঁচি। ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুরে নিষ্ক্রান্ত হতে অনিচ্ছুক বর্জ্য, এয়ারপোর্টে করা পূর্বরাত্রের ডিনারের বর্জ্যঅংশ সানন্দে দেহত্যাগ (!) করে, আর প্লেনের ব্রেকফাস্টকে প্রসেসিংএর জায়গা করে দেয়। এই কমোডগুলোর রীম থাকে আরামদায়ক ভাবে উষ্ঞ, আর পরিষ্কারের সময় হাতের ব্যবহার সুইচ টিপার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলেও চলে। খালি একটু নড়াচড়া করে গরম পানির স্প্রে জায়গামত ফেলতে পারলেই হল। স্প্রে'র জোড় কমানো বাড়ানো যায়, কাজেই শরীরে লেগে থাকা ইয়ের স্টিকিনেস কোন সমস্যাই না!

বাসার কমোডের কথা চিন্তা করলেও খারাপ লাগে। একে তো পানির ব্যাবস্থা নাই - তার উপর এই শীতের (-৩ থেকে ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস) সকালগুলোতে ঠান্ডা রীমের উপর বসলে ঠান্ডা-ছ্যাঁকা লাগে। পানির জন্য বালতি-বদনা, আর ঠান্ডার ছ্যাঁকা ঠেকানোর জন্য রীমের উপর রীম-কভার (মোজা-র মত)।

ইউনিভার্সিটির মধ্যে সব প্যান, কোন কমোড নাই। তাই কখনো ইয়ে পেলেই দে বাসায় ছুট। আশেপাশে অবশ্য ভাল ঝোপ আছে - কিন্তু ঐখানে গেলে জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা হবে, তাছাড়া প্যান আর কি দোষ করল? না না .... ভুল বললাম, প্যানের দোষ আছেরে ভাই; এ প্যান সে প্যান নয়। জাপানের স্পেশাল প্যান বলে কথা। বসতে হয় উল্টা দিকে মুখ করে! কে জানে ওরা স্বাস্থ্যসচেতন জাতি তো, তাই হয়ত এ ব্যাবস্থা - নিজ বর্জ্য দর্শন করে ভিতরে সব ঠিক আছে কি না বোঝার চেষ্টা।

যা হউক, পত্রিকায় দেখলাম আরো উন্নত (ডেভেলপড) কমোড আসতেছে শীঘ্রই। এগুলোও গরম-রীম গরম-পানি ওয়ালা তবে একটুস খানি হাইটেক: এটাতে কম্পিউটার চিপ থাকবে। বাসায় ফিট করার পর মাসখানেক ধরে এটা ব্যবহারের স্ট্যাটিসটিকস রেকর্ড করে সেই অনুযায়ী পাওয়ার ইউজ অপটিমাইজ করবে। অর্থাৎ যে যে সময়ে বাসার লোকজন টয়লেট ব্যবহার করেন, তার আগে আগে অটোমেটিক ভাবে রীম ও পানির হীটার অন করবে - তাতে অযথা বিদ্যূৎ ব্যবহার বা অপচয় রোধ হবে।

এখানেই শেষ না: কমোড হবে ঘরের ডাক্তার। আরও পরে কমোডের রীমের মধ্যে মেটালিক সেন্সর থাকবে - এটা কিভাবে জানি উরুর চর্বি মেপে বডি-ফ্যাট নির্ধারন করবে আর প্রয়োজন অনুসারে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেবে (সম্ভবত: প্রিন্টেড আউটপুট)। এরও পরের পরিকল্পনা হচ্ছে প্যাথোলজিস্ট কমোড - বুঝতেই পারছেন স্টুল-ইউরিন পরীক্ষা করবে। তবে বাংলাদেশে এসব চাইলে আগে ২৪ ঘন্টা বিদ্যূৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার।

ধৈর্য্য ধরে এতদুর পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

2 টি মন্তব্য:

aman said...

শামীম ভাই,
লেটেস্ট কমোডে ভাইরাস প্রোটেকশনের ব্যাবস্থা থাকবে তো? যদি মোবাইলের মত এতেও ভাইরাস ধরে তাহলে দেখা যাবে বেশি গরমে নাজুক যায়গায় ছ্যাকা খাওয়া লাগবে।
এহেন বস্তু কিনিবার আগে আপনি এই ব্যাপারে খোজ নিয়েন কিন্তু!

শামীম said...

খারাপ কথা বলেননি। শুনলাম একটা কম্পানি তাদের গরম রীমের কিছু প্রোডাক্ট ফেরৎ নিচ্ছে, কারণ ঐটাই.... গরম হয়ে আগুন লাগার মত অবস্থা হয়েছিল ... সার্কিট ডিজাইনে সমস্যা।

তবে ভাইরাসের ভয় করি না। গুগলতো আর সুয়ারেজ নেট ছাড়ছে না!