বহুদিন যাবৎ আর্সেনিকের উপর বাংলায় লিখব ভাবছি। এমন নয় যে, আর্সেনিকের উপরে কোন লেখা নেই.... বরং উল্টোটা.... এর উপরে অসংখ্য লেখা রয়েছে। কিন্তু প্রায় সবগুলি লেখাই ইংরেজিতে। বাংলাতেও মাঝে মাঝেই আর্সেনিকের উপর লেখা দেখি... কিন্তু পড়তে গিয়ে হতাশ হতে হয়। লেখাগুলো কোন আর্সেনিক পেশাদারের নয় তা পড়লেই বোঝা যায়। অথচ, বাংলাদেশে আর্সেনিকের উপরে অনেক পেশাদার কাজ হচ্ছে। কিন্তু যেহেতু গবেষনা বা অন্যান্য কাজগুলির দায়বদ্ধতা থাকে বিদেশী দাতাদের প্রতি, তাই এগুলোর রিপোর্টগুলিও তৈরী করা হয় তাদের বোধগম্যতার কথা মাথায় রেখে ... অর্থাৎ ইংরেজিতে।
একজন গবেষক/পেশাদার হিসেবে, ইংরেজি রিপোর্টগুলি থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য আহরন করতে আমার কোন সমস্যা হয় না। কিন্ত সমস্যা হয় মাঠ পর্যায়ে সেগুলো প্রয়োগ করতে। ব্যবহারকারীগণ তাঁদের জন্য তৈরী করা পানিশোধন যন্ত্র বা পদ্ধতিগুলো, প্রয়োজনীয় জ্ঞানের অভাবে সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে পারেন না। ফলে গবেষনাগারে অত্যন্ত সফল উক্ত পদ্ধতিগুলি তাঁদের কোন কাজে আসে না। সাধারনতঃ এ সমস্যা কাটিয়ে উঠার জন্য বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থা (সরকারী বা বেসরকারী) নির্বাচিত কয়েকজন ব্যবহারকারীকে উক্ত পদ্ধতি পরিচালনা সংক্রান্ত স্বল্পমেয়াদী (একদিন – তিনদিন বা কয়েকঘন্টা) প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।
আমাদের একটা ভ্রান্ত ধারনা আছে যে, কোন একটা ব্যাপার (ধরুন আর্সেনিক দূরীকরন যন্ত্র/ পদ্ধতি) মাঠে/গ্রামে প্রয়োগ করতে গেলে, ব্যবহারকারীগণকে দুই একদিন /দুই এক ঘন্টার প্রশিক্ষন দিলেই হবে। কিন্তু এটা আমাদের মাথায় আসে না যে, যেই পদ্ধতিটি আমরা আরেকজন সাধারন ব্যবহারকারীকে বুঝাতে চাচ্ছি সেটা একদিনে বা দুই এক ঘন্টায় তৈরী হয়নি। এটা অনেকদিনের গবেষনার ফসল। আর, এইটার কার্যকারিতা বুঝতে একজন পেশাদারকেই হয়ত কয়েক বছর বিষয়টা নিয়ে অধ্যয়ন করতে হয়েছে। কাজেই একজন পেশাদার যেটা দুই বছরে বুঝেছেন সেটা কিভাবে গ্রামের একজন অপেশাদার মানুষ দুই দিনে/ঘন্টায় আয়ত্ত করবেন! -- এটা আশা করা একটা আহাম্মকি ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু আমরা প্রতিনিয়তই কোন প্রজেক্ট পরিকল্পনা করার সময় এই আহাম্মকিটা করে থাকি। অবশ্য অন্যের খয়রাতের টাকাতে যখন কোন কাজ করা হয় তখন গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে ইচ্ছা থাকলেও গুরুত্ব দেয়া হয়ে উঠে না - এই বাস্তবতাটাও মেনে না নিয়ে উপায় নাই।
যেহেতু ভূগর্ভস্থ পানির আর্সেনিক আমাদের একটি জাতীয় সমস্যা, এটিকে সম্মিলিত ভাবে মোকাবেলা না করে উপায় নেই। কোন একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। সমস্যা সমাধানের প্রথম ধাপ হল সমস্যার ধরণটা জানা --- আর এখানেই আমাদের অনেক কাজ বাকী। কারণ অপেশাদার জনগোষ্ঠি, যারা প্রতিনিয়ত এই সমস্যাটার মুখোমুখি হচ্ছেন তাঁদের জানানোর জন্য কার্যকর কোন উদ্যোগ আমার চোখে পড়ে না। এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা (আর্সেনিক বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান – এ পর্যন্ত যা জানা গেছে) আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে পাঠ্য করা উচিৎ ছিল। যেহেতু এটাও করা হয়নি, তাই আমার কাছে সবচেয়ে কার্যকর উপায় মনে হল ইন্টারনেটকে বাংলায় জ্ঞান সঞ্চালনের কাজে ব্যবহার করে এ ব্যাপারে আমার সাধ্যমত চেষ্টা করা। যা হোক, আমি চেষ্টা করব আমার এ লেখাগুলি দ্বারা এই সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু খুবই প্রয়োজনীয় সাধারণ জ্ঞান আপনাদের সামনে তুলে ধরা।
পরবর্তী পর্বে আর্সেনিকের উৎস বিষয়ে চালু মতবাদগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করব।
--------- মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান (শামীম); ১৯-জানুয়ারী-২০০৭ইং -------------
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

0 টি মন্তব্য:
Post a Comment