ভিন্ন ভিন্ন বস্তু পুড়লে ভিন্ন ভিন্ন রঙের শিখা উৎপন্ন হয়। এটার কারণ বুঝতে হলে আনবিক গঠন সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। প্রতিটি বস্তুর পরমানুর মধ্যে ইলেক্ট্রনগুলো নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। প্রতিটি কক্ষপথে এবং উপকক্ষপথের নির্দিষ্ট শক্তিমাত্রা আছে। কোন কারণে যদি এতে শক্তি প্রয়োগ করা হয় (তাপ শক্তি) তাহলে কোন কোন ইলেক্ট্রনের শক্তি বেড়ে যায়, তাই এটা লাফ দিয়ে বাইরের দিকের কক্ষপথে চলে আসে। এই কাজটা করতে গিয়ে কিছুটা শক্তি খরচ হয়। এই খরচ হওয়া শক্তিটাই অালোর বর্ণচ্ছটা হিসেবে দেখা যায়। এই শক্তির পরিমান নির্ভর করে কক্ষপথগুলোর দূরত্বের উপরে। ভিন্ন ভিন্ন পরমানুতে এই দূরত্ব ভিন্ন বলে শক্তি খরচের পরিমান ভিন্ন। শক্তির তারতম্যের উপরে বর্ণের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য নির্ভর করে বলে রং ভিন্ন হয়।
ভিন্ন ভিন্ন বস্তুর শিখার রঙের উপর নির্ভর করে রসায়নে বিভিন্ন মৌল পরীক্ষা করা হয়। ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময়ও এই ধরণের শিখা পরীক্ষা করে কিছু ধাতু পরীক্ষা করতে হয় (যেমন.... রিনম্যানস্ গ্রীন রং হয় ম্যাঙ্গানিজ থাকলে)। এমনকি মহাজাগতিক বস্তুর গঠন সম্পর্কে জানতেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ধুমকেতু বা অন্য কোন পদার্থে বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে আলোর রঙ বা বর্ণালী বিশ্লেষন করা হয়। এই রঙের বর্ণালী দেখে এর মধ্যে কী কী পদার্থ আছে তা অনুমান করা হয়।
একই রকম মূলনীতি ব্যবহার করে এ্যাটমিক অ্যাবসরবশন স্পেকট্রোফটোমিটার (Atomic Absorpsion Spectrophotometer বা সংক্ষেপে AAS) যন্ত্রের সাহায্যে বিভিন্ন পদার্থের মাত্রা অত্যন্ত নিখুতভাবে নির্ণয় করা হয়। প্লাজমা অবস্থায় (বাষ্পীভূত যে অবস্থায় এটা পরমানুতে বিভক্ত হয়ে পড়ে) কোন ধাতুর বাষ্প শুধুমাত্র নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো (শক্তি) শোষণ করে। অন্য কোন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো শোষন করে না। কিংবা অন্যভাবে বলা যায় প্লাজমা অবস্থায় যদি একটি নমুনা বা স্যাম্পলের মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো চালানো হয়, তবে ঐ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের জন্য নির্দিষ্ট ধাতু ছাড়া অন্য কোন ধাতু ঐ তরঙ্গকে শোষন করতে পারবে না। তাই AAS এর মধ্যে একটি চেম্বারে নিদিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো চালনা করে তার মধ্যে নমুনার স্যাম্পল প্লাজমার মত বাষ্পীভূত করে দেয়া হয়; ঐ চেম্বারের অপর দিকে ঐ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের গ্রাহক থাকে। এটা ঐ নমুনার মধ্যে দিয়ে আসা তরঙ্গের মাত্রা মাপে। যদি সেই নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য শোষনকারী ধাতু থাকে তবে তরঙ্গের ঘনমাত্রা গ্রাহক যন্ত্রে কমে যায়, ঐ শোষণের (absorption) পরিমান দিয়ে সেটার মাত্রা হিসেব করা হয়।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

0 টি মন্তব্য:
Post a Comment